ঠাকুরগাঁও জেলায় অমানবিক ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে জেলায় দুটি নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ রাণীশংকৈল উপজেলায় একটি কুকুর নবজাতকের মরদেহ টেনে নিয়ে ছিঁড়ে খাওয়ার চেষ্টা করার সময় স্থানীয় এক নারীর বুদ্ধিমত্তায় তা রক্ষা পায়। একের পর এক এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো জেলায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন কুলিক নদীর সেতুর পাশে একটি অজ্ঞাত নবজাতকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই সময় একটি কুকুর নবজাতকের দেহটি টেনে নিয়ে ছিঁড়ে খাওয়ার চেষ্টা করছিল। নদীর ধারে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করছিলেন হালিমা বেগম নামের এক নারী। দৃশ্যটি দেখতে পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাতে থাকা বড়শি দিয়েই কুকুরটিকে তাড়িয়ে দেন এবং তার ছেলে রবিউল ইসলামকে বিষয়টি জানান।

পরে খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী রবিউল ইসলাম বলেন, "মা যদি সময়মতো বিষয়টি দেখতে না পেতেন, তবে কুকুরটি নবজাতকের দেহটি সম্পূর্ণ ছিঁড়ে খেয়ে ফেলত। এ ধরনের অমানবিক ও নিষ্ঠুর ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"

এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠিয়ে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের ইসলাম প্লাজার পেছনের একটি ময়লার ড্রেন থেকে অপর একটি অপরিণত শিশুর (ভ্রূণ) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে জেলায় এমন রোমহর্ষক ও অমানবিক দুটি ঘটনা ঘটায় স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কে বা কারা এই নবজাতকদের এভাবে ফেলে যাচ্ছে, তা উদঘাটন করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।