নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার পুরুলিয়া আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৩ শতক সম্পত্তি দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে জোরপূর্বক ভোগদখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি পাঁচ-পুরুলিয়া গ্রামের মৃত দিলমাহমুদ মোল্লার ছেলে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি দখলমুক্ত না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি এ ঘটনায় জমি উদ্ধারে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জারজেস হোসেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পুরুলিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২৭০ শতক। এর মধ্যে ভবন ও খেলার মাঠ মিলিয়ে রয়েছে ১২৬ শতক এবং বাকি ১৪৪ শতক আবাদী ও অনাবাদী জমি বিভিন্ন মৌজায় লিজের মাধ্যমে আয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
রেকর্ড অনুযায়ী, পাঁচপুরুলিয়া মৌজার ৫৫৮ নং খতিয়ানের ২৩৮ নং দাগের ৩৩ শতক জমির একটি পুকুর বর্তমানে বেদখলে রয়েছে। ১৯৭০ সালে দুখিনি বেওয়া নামের এক নারী এই ৩৩ শতক সম্পত্তি বিদ্যালয়ের নামে দান করেছিলেন। কিন্তু ১৯৯৫ সাল থেকে কোনো প্রকার লিজের অর্থ পরিশোধ না করেই জমিটি অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন মনিরুজ্জামান।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান স্থানীয়ভাবে বেশ প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাকে ভয় পায়। বিগত দিনে বিদ্যালয়ের কোনো প্রধান শিক্ষক বা অ্যাডহক কমিটির সভাপতিই তার কাছ থেকে এই সম্পত্তি উদ্ধার করতে পারেননি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০০৫ সালে তিনি তার স্ত্রী শাহনাজ খাতুনকে বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার অফিস সহকারী পদেও চাকরি পাইয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে মনিরুজ্জামানের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন দাবি করেন, জমিটি তারা লিজ নেননি, বরং ১৯৯৫ সালে কিনেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ১৯৭০ সালে দুখিনি বেওয়া স্কুলকে জমিটি দান করলেও ১৯৮৯ সালে তার ভাতিজা তমিজ উদ্দিন তা স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে কেনেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে তমিজ উদ্দিন স্কুলের আয়া শাহেদা খাতুনের স্বামী আমির হোসেনের কাছে এবং ১৯৯৫ সালে আমির হোসেনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকায় তার স্বামী মনিরুজ্জামান জমিটি ক্রয় করেন। তবে এত বছরেও তাদের নামে কোনো বৈধ দলিল বা সাব-কবলা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাদের কাছে কোনো দলিল নেই।
এদিকে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান দাবি করেন, ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের রেজুলেশনের মাধ্যমে স্কুলের আয়া শাহেদার স্বামীর কাছ থেকে তিনি জমিটি নিয়েছেন। তবে দলিলের বিষয়ে তিনিও কোনো সঠিক কাগজ দেখাতে পারেননি।
বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, "আমি দুই মাস হলো কমিটির দায়িত্ব নিয়েছি। মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে লিজের নাম করে জোরপূর্বক জমি দখল করে আছেন এবং বিগত ৩১ বছরে এক টাকাও লিজের অর্থ বিদ্যালয়ে জমা দেননি।"
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জারজেস হোসেন জানান, "জমির মূল দলিল বিদ্যালয়ের নামেই রয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা-খারিজও স্কুলের নামেই দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে জমিটি বেদখলে থাকায় আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।"
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, "পুরুলিয়া আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বেদখলকৃত জমি উদ্ধারের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের একটি আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!