গাইবান্ধায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে জনবল নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ফুলছড়ি উপজেলা কার্যালয়ে এই ভাঙচুর চালায় আন্দোলনকারীরা।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান তার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে আজ দুপুর ১টার দিকে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধরা। এসময় তারা নিয়োগের প্রকাশিত ফলাফল বাতিলের দাবি করেন। এর একপর্যায়ে তারা উপজেলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ইউএনওর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, তারা কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ ফুলের টব ও জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেন। এসময় পুলিশ তাদের নিবৃত করতে চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এ ভাঙচুরে নেতৃত্বে ফুলছড়ি উপজেলার যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আজ দুপুরের দিকে একদল বিক্ষুব্ধ যুবক ইউএনওর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে।
এসময় কেন ভাঙচুর করা হয়েছে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তারা কারা, আমরা জানার চেষ্টা করছি।’
এসময় বিক্ষোভকারীদের ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদেরকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবেও অবগত করা হয়নি। আমরা স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলের ফুলছড়ি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন জয় বলেন, ইউএনও যে রেজাল্টটা ( সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ ফলাফল) দিয়েছে এটার বেশিরভাই ফ্যাসিস্ট জড়িত। এর প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছি। সেখানে বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরাও ছিল।
এসময় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, কারা ভাঙচুর করেছে আমরা জানি না। ভাঙচুরের সাথে বিএনপি বা অঙ্গ-সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে কয়েক দফায় ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে একদল বিক্ষোভকারী ইউএনওর কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে। পুলিশ পৌঁছে তাদেরকে নিবৃত করার চেষ্টা করেছে এবং নিয়ন্ত্রণ করে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত,গতকাল সন্ধ্যার দিকে একযোগে গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে জনবল নিয়োগের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফলের পরপরই জেলার পলাশবাড়ি, সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন হয়।
একই অভিযোগ তুলে গতকাল রাতেই এক ফেসবুক পোস্টে আজ মঙ্গলবার সকালে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাইবান্ধা জেলার যুগ্ম সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান আরিফ। ওই কর্মসূচি থেকেই আজ ইউএনওর কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!