নাটোরের গুরুদাসপুরে রেওয়াজ বদল জমি সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালি গ্রামে সংঘর্ষটি ঘটে। এতে উভয় পক্ষের নারী ও পুরুষসহ মোট ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ময়লাল নামে একজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটি নিয়ে সাইফুল ও ময়লালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও আইনি মামলা চলছে। শনিবার সকালে বিরোধপূর্ণ সড়ক সংলগ্ন জমিতে ময়লাল বেড়া দিতে গেলে সাইফুল গিয়ে তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে সাইফুলের পক্ষের আহতরা হলেন সাইদুল (৫৪), রমিজুল (৩৮), রফিক (৪৫), হাকিম (৩৮) ও বাবুলাল (৩৯)। অপরপক্ষে আহত হয়েছেন ময়লাল (৫৫), সোহেল রানা (৩০), শরীফা (৪৫), সুলতান (৪০), জাহানারা (৪০) এবং ডাবলু (৩৫)।

ঘটনা প্রসঙ্গে সাইফুল জানান, চলমান মামলার বিরোধপূর্ণ জমিতে ময়লাল জোরপূর্বক বেড়া দিতে গেলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ময়লালের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর আক্রমণ চালায় এবং একপর্যায়ে তার বাড়ির দিকে ধাওয়া করলে তারা প্রতিরোধ গড়েন। অন্যদিকে, আহত ময়লালের ছেলে সোহেল রানার দাবি, আইনি রায়ে প্রাপ্ত ও দখলে থাকা জমিতে বেড়া দেওয়ার সময় সাইফুলের লোকজন হঠাৎ তাদের ওপর হামলা চালায় এবং তাকে ও তার বাবাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।