বয়সের ভার আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও থেমে থাকেননি নীলফামারীর সৈয়দপুরের ষাটোর্ধ্ব হালিমা বেগম। কাঁঠাল গাছের পাতা বিক্রি করে প্রতিদিনের আয়েই কোনোমতে চলছে তার কষ্টের একার সংসার।
নীলফামারীর ডোমারের চিলাহাটি এলাকার মৃত আফজাল হোসেনের স্ত্রী হালিমা বেগম বর্তমানে সৈয়দপুরের একটি বস্তিতে বসবাস করছেন। এক কন্যার জননী হালিমার স্বামী মারা যাওয়ার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় মেয়ের বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তিনি সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েন এবং টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন। বয়সের ভারে ভারী কোনো কাজ করতে না পেরে তিনি বেছে নিয়েছেন ভিন্ন এক জীবিকা।
প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে জেগে শহর ও আশপাশের গ্রাম ঘুরে কাঁঠাল গাছের পাতা সংগ্রহ করেন হালিমা। এরপর সেই পাতার বোঝা মাথায় নিয়ে শহরের রাস্তার ধারে বা বাজারে বসে যান বিক্রির উদ্দেশ্যে। সাধারণত প্রতি বোঝা কাঁঠাল পাতা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এভাবে সারাদিনে তার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়।
শহরের যান্ত্রিক জীবনে গবাদিপশুর খাবারের জন্য সহজে গাছের পাতা পাওয়া যায় না। তাই স্থানীয় অনেক খামারি ও গৃহস্থ তার কাছ থেকে নিয়মিত ছাগল ও গরুর খাবার হিসেবে কাঁঠাল পাতা কিনে নেন। পাতা কিনতে আসা আনারুল হক নামে এক ক্রেতা জানান, শহুরে পরিবেশে গাছপালা না থাকায় তিনি নিয়মিত হালিমার কাছ থেকেই ছাগলের জন্য পাতা কিনে নিয়ে যান।
জীবনের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে হালিমা বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তার চরম কষ্টে দিন কেটেছে। মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর তিনি পুরোপুরি একা হয়ে পড়েন। কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে কাঁঠাল পাতা বিক্রি শুরু করেন তিনি। কম আয় হলেও এই পেশার মাধ্যমেই তার খেয়ে-পরে দিন চলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষদের নিয়মিত সরকারি সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। হালিমা বেগমের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তাকেও দ্রুত সরকারি সহায়তার আওতায় নিয়ে আসার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!