ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যকার সংঘর্ষ ও উত্তেজনার সময় ক্যাম্পাসে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া ১৯ জন বহিরাগতকে শনাক্ত করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন এলাকার এসব অস্ত্রধারীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় ছাত্রদল এবং এ সময় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধারালো দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়াউর রহমান হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হওয়া অস্ত্রধারীদের মধ্যে পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার, যুবদলের হামিম, সানওয়ার, রাজিব, ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার জিম মন্ডল, নিবিড় মন্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ, রাতুল জোর্দার, সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি হৃদয়, রাইসুল এবং মিকদাদ রয়েছেন।
তবে অস্ত্র বহনের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মানওয়ার দাবি করেন, তারা লাঠিসোটা নিয়ে স্থানীয় জামায়াতের উসকানিতে সেখানে গেলেও ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করেননি। শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদও বহিরাগত আনার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা কোনো বহিরাগত আনেননি, বিক্ষুব্ধ জনতা হয়তো আসতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করায় তারা পুরো ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখছেন।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, অস্ত্রসহ বহিরাগত প্রবেশের বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম জানান যে তারা কাজ শুরু করেছেন এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে পুলিশ ও প্রশাসনের টহল জোরদার এবং বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!