নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। উদ্ধারকারীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে ক্রমাগত লাশ উদ্ধার করে চলেছেন। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫৪৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১,৪৭৩ জন।

এর আগে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা ৫৩৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল। সরকারি সংস্থা ও পুলিশের তথ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও উভয় পক্ষই বড় ধরনের প্রাণহানির কথা নিশ্চিত করেছে। দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার হিসাব মতে, এখনো ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৫১৭ জনই বিদেশি নাগরিক।

গত বুধবার সকালে পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসা আকস্মিক ঢলে রাসুয়ার ত্রিশূলি, নারায়নি ও ভোটকোশি নদীর পানি প্রবল বেগে বৃদ্ধি পায়। পানির সাথে নেমে আসা কাদা ও পাথরের শক্তিশালী ধস পথিমধ্যে থাকা ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা এবং বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ যাবতীয় অবকাঠামো ধ্বংস করে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

বর্তমানে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতায় ৪,৪৭৩ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সরাসরি অংশ নিচ্ছেন।

এই বন্যার প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতেও। তিব্বতে অন্তত ৩০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীন সরকার শুরুতে তিনজনের মৃত্যুর কথা জানালেও পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ওই এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানির কথা স্বীকার করেছেন।