রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ স্টেটের প্লট মালিকরা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, দালাল ও ভূমিদখলকারীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের স্থিতাবস্থা (Status Quo) অমান্য করে অবৈধ নির্মাণ ও প্লট দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে শনিবার (২২ আগস্ট) এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্লট মালিক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ৪৮ একর জমি নিয়ে গঠিত এই ওয়াকফ সম্পত্তিতে বৈধ মোতাওয়াল্লি হিসেবে আবুল কালাম আনসারী জামাল দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা ও জমির আইনগত অবস্থান উপেক্ষা করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন নামে-বেনামে এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পত্তি বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ভূমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও আইনগত বিরোধ চলমান থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে ভবন নির্মাণ, জমির কাঠামোগত পরিবর্তন এবং প্লট দখল ও বিক্রির তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এতে প্রকৃত প্লট মালিক ও ওয়াকফ সম্পত্তির স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্লট মালিকরা জানান, এই ভূমি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল মামলা নম্বর ১৫২১/২০২১ বিদ্যমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দখল ও অবস্থানের ক্ষেত্রে আদালতের স্পষ্ট স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। আদালতের এই নির্দেশনা অমান্য করে জমিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন, নির্মাণ বা দখল কার্যক্রম চালানো বেআইনি বলে দাবি করেন তারা। এছাড়া আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মামলা নম্বর ৬২/২০২৪-এর বিষয়টিও সামনে এসেছে এবং এ বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বলেও জানান তারা।

মানববন্ধনে ড্যাফোডিল মান্নান ও মোক্তার হোসেন নামের কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জমিতে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ তোলা হয়। প্লট মালিকদের দাবি, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ ও বিভিন্ন পর্যায়ে নোটিশ দেওয়া হলেও অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

পাশাপাশি, ইমন নামের সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওয়াকফ স্টেটের প্রায় ৯০ কাঠা জমি বিভিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়ার প্রলোভন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করার অভিযোগ এনেছেন প্লট মালিকরা।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে ভূমি দখল, অবৈধ নির্মাণ ও কথিত দালালচক্রের তৎপরতা বন্ধ এবং আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কীভাবে এই বিতর্কিত ওয়াকফ সম্পত্তিতে বরাদ্দ দিল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানান প্লট মালিকরা। বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।