ঢাকার আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকায় চাঁদাবাজি, ভূমিদখল, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে সেলিম মোল্লা (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় সেলিম মোল্লাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, বড় আশুলিয়া খেজুরবাগান এলাকার মো. জুয়েল রানা (৫৩) ও তার চার ভাই পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে বড় আশুলিয়া মৌজার এসএ ৬৩২, আরএস ১১৯০ ও ১১৯১ এবং বিআরএস ৭৩৬৫ দাগের মোট ১০৯ শতাংশ জমির বৈধ মালিক ও ভোগদখলকারী। এই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদী সেলিম মোল্লা ও তার সহযোগীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা নং-৫৮/২০২৫-এর রায় অভিযোগকারীদের পক্ষে যাওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিম মোল্লা তাদের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার এই টাকা না দিলে জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি ও প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়।
এরই জেরে গত ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সেলিম মোল্লাসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীদের জমিতে প্রবেশ করে পুনরায় এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় জুয়েল রানার স্ত্রী রাশিদা বেগম, ভাবী রাবেয়া খাতুন ও রহিমা বেগম বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও মারধর করে আহত করা হয়। পাশাপাশি, ২ নম্বর অভিযুক্ত জয়নাল মাস্টারের বিরুদ্ধে রাশিদা বেগমের শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেলিম মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি ও ভূমিদখলের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। মামলা দায়েরের পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেলেও অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খেজুরবাগান এলাকার একটি মসজিদের ইমামের ঘর থেকে এসআই আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্ব ও এএসআই আশরাফের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে আটক করে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!