টাঙ্গাইলের আনারসের রাজধানী মধুপুর গড়ের লাল মাটিতে ভেষজগুণ সমৃদ্ধ লটকন চাষ হচ্ছে। বিষমুক্ত জৈবিক উপায়ে লটকনের সাথে শখের বশে চাষ করা হচ্ছে থাই পেয়ারা, আনারস, লেবু, মাল্টা, আম, অ্যাভোকাডো, মরিচ ও পেঁপেসহ নানা ফসল। বাণিজ্যিক লটকন চাষে স্বপ্ন বুনছেন সৌখিন চাষীরা।
স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ অঞ্চলের লটকন যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। অপ্রচলিত ফসল চাষে সরকারি প্রণোদনা ও সারসহ কৃষি উপকরণের দাম সহলভ্য করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।
মধুপুর গড়ের লাল মাটি শুধু আনারস ও কলার জন্য বিখ্যাত হলেও মাটির গুণাগুণের কারণে এখন বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে লটকনও। অপ্রচলিত এ অর্থকরী ফসলটি প্রথমে শখের বশে চাষ শুরু হলেও বর্তমানে এটি বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। কৃষকরা বাগান জুড়ে গড়ে তুলেছেন মিশ্র ফলের সাথে লটকনের খণ্ড খণ্ড কৃষি রাজ্য। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হলুদ রঙের লটকনের বাহার। চোখ জুড়ানো এ ফল থোকায় থোকায় তুলে ক্যারেট ভরে বাগান থেকেই নিয়ে যাচ্ছেন পাইকাররা। আকার ও স্বাদের ভিন্নতার কারণে স্থানীয় বাজারে যেমন চাহিদা বাড়ছে, তেমনি নজর কাড়ছে অন্যান্য জেলাতেও। মিশ্র বাগানে বাড়তি খরচ না থাকায় ভালো ফলন ও দাম পেয়ে দিন দিন বাড়ছে লটকন চাষ।
বাগান থেকে লটকন তুলে নিচ্ছেন পাইকাররা এবং ক্যারেট ভর্তি করে পরিবহনে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরবর্তীতে এগুলো স্থানীয় বাজার ও অন্যান্য জেলায় পাঠানো হচ্ছে। আউশনারা, বেরিবাইদ ও মহিষমারা ইউনিয়নের সর্বত্রই এখন এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
কৃষক ও পাইকাররা জানান, মধুপুর গড় ফল-ফসল হিসেবে পরিচিত। আনারস ও কলার মতো লটকনসহ বিভিন্ন ফলমূল দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
বড় চাষীরা বলছেন, মিশ্র বাগানে এ বছর কয়েক লাখ টাকার লটকন বিক্রি হয়েছে। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় তারা আশানুরূপ দামও পাচ্ছেন।
লটকন চাষী ডা. মুহাম্মদ আলী বলেন, মধুপুর গড়ের লাল মাটি লটকনসহ অন্যান্য ফসল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। ভেষজগুণ সমৃদ্ধ দেশি ফল লটকন চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। অনেক চাষী ও উদ্যোক্তা নিজ আগ্রহে লটকন চাষে এগিয়ে আসছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মধুপুর, টাঙ্গাইল মমতাজ বেগম বলেন, কৃষি বিভাগ নিয়মিতভাবে চাষীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
চলতি বছর ৭ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। ভেষজগুণ সমৃদ্ধ লটকন চাষ বৃদ্ধি পেলে কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, তেমনি কর্মসংস্থান ও পুষ্টি ভিটামিনের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষিতে ফিরবে দেশি ফলের বৈচিত্র্য। একই জমিতে একসাথে মিশ্র ফসলের চাষে চাষীরা আরও এগিয়ে যাবেন। বৈচিত্র্যময় কৃষি অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!