গুয়াহাটির বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন আসামের যোরহাট, শিবসাগর ও চরাইদেও জেলার সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মানবিক সহায়তা দিয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আসামের জনগণের প্রতি সংহতি ও সহমর্মিতা প্রকাশের অংশ হিসেবে গুয়াহাটির বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার জিকরুল হাসান ফাহাদ বন্যাকবলিত ৫০টি পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রতিদিন টাইমের জেনারেল ম্যানেজার মৃন্ময় দাসের নিকট হস্তান্তর করেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করেন সহকারী হাইকমিশনার।

ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে পুরুষদের টি-শার্ট, নারীদের পোশাক, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ওআরএস), ফিনাইল, ব্লিচিং পাউডার, গোসলের সাবান, বিস্কুট এবং মশার কয়েল। এসব সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সহকারী হাইকমিশনার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর দ্রুত পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

গুয়াহাটির বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন দুর্যোগ ও সংকটের সময়ে আসামের জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। মানবিক এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং মানবিক সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে সহকারী হাইকমিশনার আশা প্রকাশ করেন।

এ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অসংখ্য বসতবাড়ি, গবাদিপশু ও গৃহস্থালির সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া, ৭০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রায় ২০০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।