অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামাল ‘সেলুলোজ অ্যাসিটেট টো’ (অ্যাসিটেট টো) আমদানির একটি বড় চালানের তথ্য উন্মোচন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে চালানটির খালাস স্থগিতের মাধ্যমে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সরাসরি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা হয়েছে। সিআইসি সতর্ক করেছে যে, এই কাঁচামাল বাজারে প্রবেশ করলে স্থানীয় উৎপাদনে আনুমানিক ৩২৪ কোটি থেকে ৫৬৪ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব ফাঁকি হতে পারত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সিআইসি সূত্রে জানা গেছে, সম্পূণ আমদানিনির্ভর এই কাঁচামালটির বাণিজ্যিক আমদানি হঠাৎ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে সংস্থাটি। বিশ্লেষণে 'ইউনিক ট্রেডার্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি কার্যক্রম সন্দেহজনক মনে হলে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট বিভাগের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালানো হয়। এতে জানা যায়, নিবন্ধিত ঠিকানায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো বাস্তব অস্তিত্ব বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই।
পরবর্তীতে গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম কাস্টমস দিয়ে ‘ইউনিক ট্রেডার্স’-এর নামে আসা দুটি কনটেইনারে ৪৮,১৪৩ কেজি অ্যাসিটেট টোর চালানটি আটকে দেয় সিআইসি। চালানের ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় নিশ্চিতের পর এর পেছনের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ঝুঁকির তথ্য হিসাব করে সিআইসি।
সংস্থাটি জানায়, প্রতি ১ কেজি অ্যাসিটেট টো থেকে প্রায় ৮,৯৩৭ শলাকা সিগারেট তৈরি সম্ভব। সে হিসাবে এই চালানের কাঁচামাল দিয়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ ২৫ হাজার প্যাকেট সিগারেট উৎপাদন করা যেত। এই বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল স্থানীয় মিডিয়াম সেগমেন্টের সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত হলে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা এবং হাই সেগমেন্টের সিগারেট তৈরিতে ব্যবহৃত হলে প্রায় ৫৬৪ কোটি টাকা রাজস্ব হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিক ট্রেডার্স সর্বমোট ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৩৭ কেজি অ্যাসিটেট টো আমদানি করেছে। এই বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের সঠিক গন্তব্য, প্রকৃত ব্যবহারকারী ও সরবরাহ চেইন খতিয়ে দেখতে গিয়ে সিআইসি আরও অন্তত চারটি সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পেয়েছে।