সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দায়ের করা মামলার আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত মার্কিন আইন প্রতিষ্ঠান ‘কোজেন ও কন্নর’-এর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪৫২তম পর্ষদ সভায় এই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আইনি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক শেষ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া না হলেও খুব শিগগিরই অভিজ্ঞ ও অর্থ উদ্ধারে সফল কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা এবং এখানে সন্দেহের কিছু নেই। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাইবার হামলার মাধ্যমে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়েছিল। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া প্রায় ২ কোটি ডলার ফেরত এলেও ফিলিপাইনে পাচার হওয়া বড় অংশের অর্থ উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এতদিন পরিচালনা করছিল ‘কোজেন ও কন্নর’।
এদিকে রিজার্ভ মামলার পাশাপাশি এস আলম-সংশ্লিষ্ট মামলাতেও বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যাংক দুটির নতুন আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাগীব রউফ চৌধুরী। ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে এস আলম গ্রুপ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার অবৈধভাবে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আদালত ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ওই শেয়ারগুলো অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।