মৌসুমের আগেই বাজারে তুলে বাড়তি লাভের আশায় পাবনার বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে আগাম জাতের শিম চাষ। তবে অনিয়মিত আবহাওয়া, ফুল ঝরে পড়া, রোগবালাই এবং বাজারে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ার কারণে কৃষকদের মনে দেখা দিয়েছে তীব্র শঙ্কা। উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লাভ ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে চলতি বছর ১ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে অটো, রুপভান ও কেয়ারা জাতের আগাম শিমের চাষ হয়েছে। চাঁদভা ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সবুজ পাতার সমারোহে ছেয়ে গেছে শিমক্ষেত। গাছে গাছে ফুটেছে ফুল এবং উঁকি দিচ্ছে কচি শিম। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকরা এই মুহূর্তে ক্ষেতের পরিচর্যা, সেচ দেওয়া ও রোগবালাই দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তবে গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও রোদের লুকোচুরি আবহাওয়া কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টির ওঠানামায় শিম গাছের ফুল ও ফল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ফলন বিপর্যয় ও উৎপাদন খরচ না ওঠার শঙ্কা রয়েছে।
পাশাপাশি চাষাবাদের শুরু থেকেই সার সংকটের তীব্র অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। স্থানীয় বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় অতিরিক্ত চড়া দামে তা কিনতে হচ্ছে। সারের দাম ও কৃষি উপকরণের বাড়তি ব্যয়ের কারণে বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
সরাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেন খোকন অভিযোগ করে জানান, নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না এবং চড়া দামে কিনতে গিয়ে লাভ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। আরেক কৃষক মো. হায়দার আলী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফুল নষ্ট হয়ে রোগবালাই দেখা দিলেও তারা স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরণের সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
কৃষকদের এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা মোতমাইন্না। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারেন।