টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্রুত বাড়ছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি। এর ফলে বাঘাইছড়িসহ হ্রদ তীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়লেও, অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাটের (স্পিলওয়ে) ওপেনিং বাড়িয়ে তিন ফুট করা হয়েছে। এর ফলে রোববার দুপুর থেকে বাঘাইছড়ির প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে কাচালং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এতে বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। প্লাবিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে: পৌরসভার বটতলী, এফ ব্লক ও পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টারপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া ও লাইল্যাঘোনা, উলুছড়ি, বাঘাইহাট, পশ্চিম মুসলিম ব্লক ও মধ্যমপাড়া
কিছু এলাকায় রাস্তাঘাট এবং বসতবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা সাময়িক দুর্ভোগে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে তিন ফুট করা হয়েছে। বর্তমানে এই গেটগুলো দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ার কারণে গেটগুলোর ওপেনিং বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা পরিবর্তন করা হতে পারে। গেট খোলার পর রোববার দুপুর থেকে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কমতে শুরু করায় জনজীবনে স্বস্তি ফিরছে।
হ্রদের পানি বাড়ার কারণে রাঙামাটি শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ পর্যটন ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের বেশিরভাগ অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সেতুটিতে বর্তমানে চলাচল ও প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।