২০১৬ সালে দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে ফিফা প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ান সেপ ব্ল্যাটার। এরপর ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে উদ্ধার করার দায়িত্ব কাঁধে নেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। দেখতে দেখতে কেটে গেছে এক দশক। এই ১০ বছরে ফিফায় ব্যাপক সংস্কার ও সম্প্রসারণ সাধিত হলেও বর্তমান ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো জড়িয়ে পড়েছেন নানা বিতর্কে।
দুর্নীতির কষাঘাতে জর্জরিত ফিফায় স্বচ্ছতা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে একসময় দায়িত্ব নিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। সে সময় স্পন্সররা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় ফিফায় ৩৯২ মিলিয়ন পাউন্ডের ঘাটতি ছিল। তবে দশ বছর পর ফুটবলের এই শীর্ষ সংস্থাটি আর্থিকভাবে এখন বেশ সুদৃঢ়। চলতি বছরের শেষ নাগাদ তিন বছরের চক্রে রেকর্ড ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের আশা করছে সংস্থাটি। তবে বিতর্কিত ক্লাব বিশ্বকাপ এবং উচ্চমূল্যের টিকিটসহ এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আয়োজন এই অর্থ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইনফান্তিনোর কার্যপদ্ধতি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা উয়েফাসহ ইউরোপীয় ফুটবলের তীব্র অসন্তোষের কারণ হয়েছে। গত মে মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে ফিফা কংগ্রেসে দেরিতে উপস্থিত হওয়ার ঘটনায় উয়েফা তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তোলে।
এছাড়াও, ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার বিতর্কিত পরিকল্পনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এর জেরে উয়েফাসহ কয়েকটি কনফেডারেশনের তীব্র বিরোধিতার মুখে এবং জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার পদত্যাগের পর ফিফা শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়।
২০১৯ এবং ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হওয়া ইনফান্তিনো ২০২৭ সালের পরবর্তী নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ফিফার সংবিধানে সভাপতির মেয়াদ সীমাবদ্ধ থাকলেও তিনি আবারও নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন। বিগত এক দশকে বিশ্ব ফুটবলের আর্থিক উন্নতি ও ক্ষুদ্র দেশগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার ভূমিকা প্রশংসিত হলেও একের পর এক বিতর্ক এবং ক্ষমতার বলয় তৈরির কারণে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ও আলোচনা এখন তুঙ্গে।