ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে ভারতীয় সংসদের একটি স্থায়ী কমিটিকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। স্বনামধন্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। এরপরই সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান জানান, শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে ফিরলেই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হতে পারে।

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছে সংসদীয় কমিটি: মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার সুপারিশ করেছে কমিটি। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটক ভিসা স্থগিত হওয়ার প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২৮ জুন বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় পর্যটক ভিসা চালু করে ভারত। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে দ্রুত চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরুর সুপারিশ করা হয়েছে। চুক্তির ক্ষেত্রে হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অব্যাহতভাবে বিবেচনায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভারতীয় সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকা থেকে পাঠানো অনুরোধপত্রটি ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পর্যালোচনা করছে।

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবিক ঐতিহ্য ও সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতির আলোকেই শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি ভারত কঠোরভাবে এই নীতি অনুসরণ করছে যে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।