বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যাংকঋণের চাহিদা বাড়াতে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জন্য এই মুদ্রানীতি প্রকাশ করা হচ্ছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।
অর্থনীতির বিদ্যমান পরিস্থিতি এবং নতুন মুদ্রানীতির মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে নীতিগত সিদ্ধান্ত দ্রুত সমন্বয় করতে এতদিন বছরে দুইবার (ছয় মাস পরপর) মুদ্রানীতি ঘোষণার যে নিয়ম ছিল, তা বদলে এখন থেকে তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের বাজেটে আগামী অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে।
জুলাই শেষে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৪.৬২ শতাংশে (জুনে যা ছিল রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪.৪৭ শতাংশ)। ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদহারের কারণে ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য থাকা সত্ত্বেও উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কম। ঋণ সহজ করতে আগস্টে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশ করা হলেও ঋণপ্রবৃদ্ধি এখনো ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।
বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮.২৬ শতাংশে নেমেছে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে তা এখনো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করে রাখায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি থাকায় নীতি সুদহার বর্তমান অবস্থানেই রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন এই মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কীভাবে উৎপাদনশীল খাত ও বেসরকারি বিনিয়োগে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো যায়—সেই ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!