ইউএনও’র ফেসবুক পোস্টের কমেন্টসে মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘পরীক্ষা নামের নাটক না করলেও চলতো।’
ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মির্জা রায়হান কবির বলেন, ‘পরীক্ষা নামের নাটকটি করে এতগুলো ছেলে-মেয়েকে হয়রানি করা উচিত হয়নি।’ রুহান পাইলট নামে একজন বলেন, ‘এটা আবার কোন মেটিকুলাস ডিজাইন?’
ফলাফল প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয় পানিসারা ইউনিয়নের মনিরুল ইসলামকে নিয়ে। অভিযোগ ওঠে, তিনি তথ্যসংগ্রহকারী পদের ভাইভায় অংশ না নিলেও চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যে তার ফলাফল বাতিল করে সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রশাসন।
ঝিকরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সদস্যসচিব মো. তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই সংশোধনীতে ‘তথ্যগত ত্রুটি’র কথা উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। তবে নিয়োগপ্রত্যাশীদের একাংশ এটিকে নিছক তথ্যগত ত্রুটি হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, এটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। তারা বলছেন, এই সংখ্যা এক নয় একাধিক।
রিকন আহমেদ নামে এক নিয়োগপ্রত্যাশী বলেন, ভাইবা বাদেও মানুষ চাকরিতে কীভাবে টিকে? তবে এ তালিকায় শুধু মনিরুল ইসলাম নয়, একাধিক ব্যক্তি পরীক্ষা না দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলেও দাবি তার।
সংশোধনী বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আশরাফুল আলম রানা মন্তব্য করেন, ‘ত্রুটিগুলো আগে দেখা আপনাদের দায়িত্ব। সাপ ছেড়ে দিয়ে খেলা দেখার মতো হয়ে গেলো না?’
নাসিমা জাহান নিশি নামে এক নিয়োগ প্রত্যাশী বলেন, ‘এতো কষ্ট করে এতো ভালো প্রস্তুতি নিয়েও ওয়েটিং লিস্টে। আর যে পরীক্ষা দিল না সে সিলেক্টেড!’
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘থানা থেকে চৌকিদারের কাছে ফোন দিছে। চৌকিদার বলছে বাপ আওয়ামী লীগ করে। যার জন্য আমি নির্দলীয় লোক বাদ। পরীক্ষায় ১১টাই উত্তর দিয়েছি। ভাইবার স্যারেরাও বলেছে এ পারবে। থানার ফোনের জন্য বাদ। আজব।’ সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘যারা নিজের ডিপার্টমেন্ট নামের বানান শুদ্ধ করে লিখতে পারে না তারাই টিকছে। ভিন্ন রাজনীতির কাছে হেরে গেলাম কিন্তু কিছু মানুষরে চিনে রাখছি। প্রতিবাদ আমি করবোই করব।’
পলাশ হোসেন বলেন, স্যার ভাইভা দেয়নি তারপরও ওনার নাম কীভাবে আসে? না কি আগে থেকে সব ঠিক করে রাখছিলেন? পরে ধরা খাওয়ার ভয়ে বাদ দিয়ে দিছেন? রেজওয়ান রনি বলেন, ‘পরীক্ষা নেওয়া ছিল শুধুমাত্র নিয়মটা মানা। সব শুভঙ্করের ফাঁকি।’
এর আগে ফলাফল প্রকাশের আগেই নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ঝিকরগাছায় ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ। ছাত্র কোটায় একজন নাকি আগাম সিলেক্টেড, এমন অভিযোগ চাউর হয়েছে।’
এদিকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের গদখালী ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহকারীদের অপেক্ষমান তালিকার ৯ নম্বরে থাকা জনি হোসেন (পিতা- শামছুল হুদা) ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ডা. তৌহিদুজজামান তুহিনের পোলিং এজেন্ট এবং ১০ নম্বরে থাকা আশরাফুল ইসলাম (পিতা-আক্কাছ আলী) গদখালী ইউনিয়ন শাখার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
সার্বিক বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সভাপতি সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার রয়েছে। ফেসবুকে কে কি লিখছে সে বিষয়ে আমার জানা নেই। নিয়োগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হয়েছে। তবে অনিয়মের অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে তদন্ত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!