গাড় এলাকার শালবনের পাশে অজপাড়াগাঁয়ের গারো পল্লী থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় স্তর পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপের গৌরব অর্জন করেছেন টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের আদিবাসী গারো কিশোরী নাম্বিয়া লুইজি নকরেক। তার এই অভাবনীয় বিজয়ে এখন আনন্দে ভাসছে নিজ গ্রাম জয়নাগাছাসহ আশপাশের পুরো গারো পল্লী। তার এই সাফল্যে গর্বিত এলাকাবাসী। ভবিষ্যতে নাম্বিয়া শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
নানী মিসেস রঞ্জি নকরেক জানান, গারো সমাজের মাতৃতান্ত্রিক রীতিতে সংসার বা পরিবারের প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই নাম্বিয়ার এমন অর্জনে পুরো পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন অভিভূত।
শৈশবের দুরন্তপনা আর অজপাড়াগাঁয়ে বেড়ে ওঠা নাম্বিয়া অদম্য আত্মবিশ্বাস ও কঠোর অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মধুপুর গড়ের জয়নাগাছা গ্রামের মিন্টু দিব্রা ও সুকলা নকরেক দম্পতির ছোট মেয়ে নাম্বিয়া। কৃষক পিতার কন্যা নাম্বিয়া নিজের নিষ্ঠা ও কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, সুযোগের সীমাবদ্ধতা জয় করেও গ্রাম থেকে জাতীয় পর্যায়ে স্বপ্ন ছোঁয়া সম্ভব।
মাটির দেওয়ালের ছোট্ট কুঁড়েঘরে বসবাস করা নাম্বিয়ার চারপাশের প্রতিবেশীরা মূলত শ্রমজীবী। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের ফিটনেস ঠিক রাখা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্যই মূলত তিনি কারাতে চর্চা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে এই খেলাটিই তার জীবনের অন্যতম টার্গেটে পরিণত হয়।
গ্রামের মুরুব্বি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে নাম্বিয়া নকরেক জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় পুরো এলাকাবাসী আজ গর্বিত ও আনন্দিত। ভবিষ্যতে তিনি আরও বহুদূর এগিয়ে যাবেন বলে তারা দৃঢ় আশাবাদী।
পরিবারের উৎসাহ এবং ছোটবেলা থেকেই খেলার প্রতি অদম্য আগ্রহ তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গারো সমাজের নিয়ম অনুযায়ী তিনি একদিন পরিবারের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সফলভাবে পালন করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা তার নানা ও স্থানীয়বাসীর।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!