দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ০৯ শতাংশে উন্নীত হলেও এখনো নিরক্ষর রয়েছে প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট অর্থাৎ সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ মানুষ এখনো সাক্ষরতার বাইরে রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ (লিটারেসি ফর পিপল, দ্য প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রসপেরিটি)।
অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যমতে, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি অংশ বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার (বিসিএস) তথ্যের ভিত্তিতে দেশে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা প্রায় পৌনে চার কোটি বলে নিশ্চিত করেছে।
সরকারি সংজ্ঞায় সাক্ষরতা কেবল অক্ষরজ্ঞান অর্জন বা নিজের নাম স্বাক্ষর করতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মাতৃভাষায় পড়তে ও তা অনুধাবন করতে পারা, মৌখিক ও লিখিতভাবে বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করা, যোগাযোগ স্থাপন এবং দৈনন্দিন জীবনে গণনা করতে পারার সক্ষমতাকেও সাক্ষরতার আওতায় ধরা হয়।
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার সরকারি লক্ষ্যের সামনে এই বিপুল পরিমাণ নিরক্ষর জনগোষ্ঠী একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, “সাক্ষরতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে দৃশ্যমান অগ্রগতি করেছে। তবে এখনো প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ নিরক্ষর থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা দূর করতে হলে প্রথমে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করতে হবে এবং এরপর এলাকাভেদে বড় ধরনের উপানুষ্ঠানিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।”
এদিকে নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও এখনো একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক (পরিকল্পনা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন) ড. ফারুক আহাম্মদ জানিয়েছেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একাধিক নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।