নাটোরের গুরুদাসপুরের ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র তিন বছর আগে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্যবহার উপযোগী ভবন কোনো ধরনের কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ভেঙে মাত্র ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। জাইকার অর্থায়নে নির্মিত ওই ভবনের সাথে বিদ্যালয়ের একটি পুরোনো আধাপাকা ভবনও ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে ভেঙে ফেলা ওই জায়গাতেই ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন চারতলা ভিতের একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২০-২১ অর্থবছরে জাইকার অর্থায়নে ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে প্রায় ২২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মিত হয়েছিল এবং ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এর উদ্বোধন করা হয়। বিদ্যালয়ে জায়গার সংকট দেখিয়ে চলতি বছরের জুন-লাই মাসে প্রধান শিক্ষক ভবন দুটি ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে মাইকিং করে দরদাতার মাধ্যমে ইট, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী প্রায় ১ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। তবে সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি হলো, ভবন ভাঙার আগে উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি বা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে কিছুই জানানো হয়নি এবং কোনো সরকারি অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। এমনকি ২৩ আগস্ট নতুন ভবনের অনুমোদন আসার আগেই পুরোনো ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছিল।
প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন এ বিষয়ে পরিচালনা কমিটির রেজুলেশন রয়েছে এবং বিক্রির অর্থ বিদ্যালয় তহবিলে জমা দেওয়া হবে, তবে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো দাপ্তরিক নথি বা সুনির্দিষ্ট হিসাব দেখাতে পারেননি। বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। অন্যদিকে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার এবং উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া নিশ্চিত করেছেন যে ভবন ভাঙার বিষয়ে তাদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ জানিয়েছেন, নিয়মনীতি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ভবন বিক্রি ও ভাঙার এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।