ভারত মহাসাগরে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও দুটি সর্বাধুনিক ‘সি গার্ডিয়ান’ (Sea Guardian) ড্রোন ভাড়া নিয়েছে ভারত। মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘জেনারেল অ্যাটমিকস’-এর সঙ্গে ১ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকার এই চুক্তির আওতায় ড্রোন দুটি আগামী ৩০ মাস ভারতীয় নৌবাহিনীতে কাজ করবে।

এর আগে ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্থায়ীভাবে ৩১টি ড্রোন কেনার বড় চুক্তি সম্পন্ন করেছে। তবে প্রশাসনিক ও কাগজপত্রের প্রক্রিয়া শেষ করে সেই কেনা ড্রোনগুলো ভারতে পৌঁছাতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। মূলত কেনা ড্রোন হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত সমুদ্রে নজরদারিতে যেন কোনো ফাঁক তৈরি না হয়, সেই জরুরি প্রয়োজনেই এই দুটি ড্রোন সাময়িকভাবে ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সরঞ্জাম সরাসরি ক্রয়ের চেয়ে লিজ বা ভাড়া নেওয়ার বেশ কিছু কৌশলগত সুবিধাও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের মূল দায়িত্ব সরবরাহকারী কোম্পানির ওপর থাকে। এর আগে ২০২৪ সালে একটি ড্রোন কারিগরি ত্রুটির কারণে সাগরে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভারতকে আরেকটি নতুন ড্রোন সরবরাহ করেছিল।

বিশ্বের অন্যতম সেরা নজরদারি যান হিসেবে পরিচিত এই ড্রোন আকাশে একটানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় উড়তে সক্ষম। এটি কেবল সমুদ্রপৃষ্ঠের জাহাজের গতিবিধিই নয়, বরং পানির নিচে থাকা সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা পাহারা দেওয়া ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন এই চুক্তির ফলে ২০২৯ সালে নিজস্ব ড্রোন হাতে পাওয়া পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই ভারত মহাসাগরে কড়া পাহারা বজায় রাখতে পারবে ভারতীয় নৌবাহিনী।