৬৫ বছর বয়সে নিজের বসতবাড়ি, পৈতৃক ও মাতৃসূত্রে পাওয়া জমি এবং মা-বাবার কবরস্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকার মর্মান্তিক অভিযোগ করেছেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের পাঁচালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কমলা বেগম।
ভুক্তভোগী কমলা বেগমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুলাল চৌকিদার ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জমি ও বসতবাড়ি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে তিনি হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার কারণে তিনি নিজের বাড়িঘরে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না এবং বর্তমানে বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কমলা বেগম বলেন, তাঁর নিজের কোনো সন্তান নেই, স্বামীও বেঁচে নেই। জীবনের এই অন্তিম লগ্নে তিনি নিজের মা-বাবার ভিটায় ফিরে যেতে চান। এমনকি নিজের মায়ের কবরস্থানেও তাকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কমলা বেগমের দাবি, তাঁর মায়ের দেওয়া জমি এবং বাবার সম্পত্তিতে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর থাকার একমাত্র ঘরটিতেও দুলাল চৌকিদার তালা মেরে দিয়েছেন। তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আমি আমার মা-বাবার ভিটায় ফিরতে চাই। আমার মা-বাবার কবরটা দেখতে চাই। জীবনের শেষ সময়ে এটুকু অধিকার আমি চাই।’
এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
কমলা বেগমের ছোট বোন হালিমারও অভিযোগ, দুলাল চৌকিদার ও তাঁর পরিবারের কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এসব অভিযোগের একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুলাল চৌকিদার ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে এলাকার অনেকেরই দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানো, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বর্তমান ইউপি সদস্য নুর ইসলাম হাওলাদার বলেন, দুলাল চৌকিদার ও তাঁর পরিবারের কার্যকলাপ নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে যেকোনো অভিযোগের বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ পাওয়া যায়, অতীতে দুলাল চৌকিদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তিনি কারাভোগও করেছেন। সম্প্রতি তাঁকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন কয়েকজন।
কমলা বেগমের আরও অভিযোগ, দুলাল চৌকিদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কারণে তিনি ও তাঁর মা অতীতে শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত দুলাল চৌকিদারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি এ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শরীয়তপুর জেলা সাংবাদিক প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্বপন, সাংবাদিক শাহাদাত হোসেন, কালের কণ্ঠের নাসির খান, সাংবাদিক জামালসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে কমলা বেগম বলেন, ‘সাংবাদিকরা আমার শেষ ভরসা। আপনারা সাধারণ মানুষের অধিকার ও ন্যায়ের জন্য কাজ করেন। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আমাকে আমার মা-বাবার ভিটা, নিজের ঘরবাড়ি ও কবরস্থান দেখার সুযোগ করে দিতে সহযোগিতা করুন।’
তিনি সরকারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং তাঁর নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।