রাজধানীতে কর্মরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আরিফের বিরুদ্ধে অটোচালকদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়, সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের হয়রানিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী চালকরা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগ ট্রাফিক পুলিশের মূল দায়িত্ব হলেও সার্জেন্ট আরিফের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন চালকরা। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকা মেট্রো এলাকায় কর্মরত থাকলেও তার নিজস্ব ব্যবহৃত গাড়িতে ডিজিটাল নম্বর প্লেট না থাকা সত্ত্বেও তিনি সাধারণ মানুষের যানবাহনের কাগজপত্র অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে যাচাই করেন। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অটোচালক মিনহাজ বলেন, "লেখাপড়া করেও চাকরি পাইনি। পেটের দায়ে অটোরিকশা চালিয়ে পরিবার চালাই। বিভিন্ন সময় যাত্রী নিয়ে কিছু সড়কে গেলে ট্রাফিক পুলিশ আমাদের গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখে। পরে টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ডাম্পিংয়ে পাঠিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। তাই গণমাধ্যমের সামনে আমাদের অভিযোগ তুলে ধরছি।"
আরও বেশ কয়েকজন অটোচালকের অভিযোগ, তাদের হাতে ৬০০ টাকার একটি সাদা রসিদ ধরিয়ে দিয়ে নানা অজুহাতে অর্থ আদায় করা হয়। তাদের মতে, সারাদিন পরিশ্রম করে যেখানে ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকা আয় হয়, সেখানে ৬০০ টাকা জরিমানা বা অন্য উপায়ে দিতে হলে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। ট্রাফিক বিভাগের কিছু অসাধু সদস্যের দীর্ঘদিনের মাসোহারা গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে অনুসন্ধানী গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, তাদের হাতে এমন কিছু তথ্য ও আলামত রয়েছে যেখানে একই নম্বর ব্যবহার করে একাধিক সিএনজি অটোরিকশা চলাচলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অতীতে যেসব অনিয়মের অভিযোগ ছিল, বর্তমান সময়ে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে—সে বিষয়ে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অটোচালক, অন্যান্য যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষ।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত সমস্ত অভিযোগ মূলত অভিযোগকারী চালকদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সার্জেন্ট আরিফ কিংবা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।